নগদ-এ যুক্ত হলো হুয়াওয়ে
নগদ ডিজিটাল ব্যাংক ও নগদ মোবাইল আর্থিক সেবার বিদ্যমান সুবিধার সাথে যুক্ত হলো হুয়াওয়ে টেকনোলজিস। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বেইজিংয়ের শাংরিলা হোটেলে বাংলাদেশের সেরা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেড এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস-এর মধ্যে এ বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে দেশের প্রথম ডিজিটাল ব্যাংকের গ্রাহক হিসেবে নগদের গ্রাহকেরা যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে আন্তর্জাতিক মানের লেনদেন সেবা উপভোগ করতে পারবেন।
নগদের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর এ মিশুক। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরিদ খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রমতে, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেড ও নগদের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে বাংলাদেশে। দেশের পুঁজিবাজারের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়াগের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে ডিইএক্স বাংলাদেশ টেক লিমিটেড ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মধ্যে।
হুয়াওয়ের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ও হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্যান জুনফেং। এ সময় চীন সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নগদের অভাবনীয় অবদানের কথা উল্লেখ করে ভূয়সী প্রশংসা করেন পিপলস রিপাবলিক অব চায়না-এর ভাইস মিনিস্টার অব কমার্স লি ফেই।
চুক্তির বিষয়ে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরিদ খান বলেন, ‘মোবাইল আর্থিক সেবা হিসেবে নগদ গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের আর্থিকখাতে বড় রকমের বিপ্লব ঘটিয়েছে। এখন এটিকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। নগদ এবং হুয়াওয়ে যৌথভাবে বাংলাদেশে কাজটি করবে। নগদ ডিজিটাল ব্যাংক এক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখবে; যার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় অগ্রগতি ঘটবে।’
তিনি বলেন, ‘শতভাগ ক্যাশলেস সমাজ গড়তে যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার, তা নিশ্চিত করতেই বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের সাথে আমাদের এই চুক্তি হল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের এমএফএস ও ডিজিটাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা বিশ্বমানের সেবার অভিজ্ঞতা পাবেন। ফলে ডিজিটাল লেনদেন হবে আরো নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সাশ্রয়ী।’
আগামী বছর বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে গত ৮ জুলাই থেকে চীন সফর শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে বেশকিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হচ্ছে। আট বছর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং যখন বাংলাদেশ সফরে আসেন, তখন বলা হয়েছিল, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক চিরাচরিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক থেকে কৌশলগত সহযোগিতায় উন্নীত হয়েছে। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় চীনকে বাংলাদেশের উন্নয়নের নিবিড় কৌশলগত অংশীদার বলে উল্লেখ করা হয়।
দুই দেশের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় নগদের সঙ্গে হুয়াওয়েই-এর এই চুক্তি, যা ডিজিটাল লেনদেনের বৈশ্বিসক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির ফলে গ্রাহকদের জন্য বাংলাদেশে একেবারেই নতুন কিছু আর্থিক সেবা ও পণ্যের প্রচলন শুরু হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার ধরণ বদলে দেওয়ার মতো ভূমিকা রাখবে।
পাঁচ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে যাত্রা করা নগদ কিছুদিন আগে পেয়েছে দেশের প্রথম ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স। মোবাইল আর্থিক সেবার যাত্রায় স্বল্পতম সময়ে নয় কোটি গ্রাহকের সর্ববৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতিদিন নগদের লেনদেন ১৮০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে দেশের দ্রুততম ইউনিকর্ন হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।







